প্রায় চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তার ক্যারিয়ারসেরা ৮৬ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৮৫ রানের লড়াকু লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এ টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেন মোসাদ্দেক। এছাড়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৭ এবং তানজিদ হাসান তামিম ৫৪ রান করেন। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ ১৫ বলে ২০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।
ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওভারেই ৫ রান করে বিদায় নেন সাইফ হাসান। ওয়ানডেতে টানা তৃতীয় ইনিংসে এক অঙ্কের ঘরে থামলেন তিনি।
এরপর দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ ও শান্ত ৯৬ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ১ উইকেটে ৬২ রান। ৪৪ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করা তানজিদ ৫৪ রান করে আউট হলে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ এই জুটি।
এরপর ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি লিটন দাস। মাত্র ৭ রান করে ফিরে যান তিনি। কিছুক্ষণ পর ৮৬ বলে ৬৭ রান করে আউট হন শান্ত। তার ইনিংসে ছিল নিয়ন্ত্রিত ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ছাপ।
১৩০ রানের কাছাকাছি অবস্থান থেকে ৩৪ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই পরিস্থিতিতে দলকে টেনে তোলেন তাওহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক। দুজন মিলে ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। হৃদয় ৫১ বলে ৩১ রান করে বিদায় নিলেও মোসাদ্দেক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন।
৪৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা-কে এক ওভারে দুই চার ও এক ছক্কা হাঁকিয়ে রান তোলার গতি বাড়ান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে বাংলাদেশের সংগ্রহকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যান।
৪৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৫০ রান। শেষ পাঁচ ওভারে আরও ৩৪ রান যোগ করে স্বাগতিকরা ইনিংস শেষ করে ২৮৪ রানে।
এখন ম্যাচ জিততে অস্ট্রেলিয়াকে করতে হবে ২৮৫ রান। মিরপুরের উইকেট বিবেচনায় এই লক্ষ্যকে লড়াকু বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
