ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ ঘিরে সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল উন্মাদনা। বিভিন্ন এলাকায় শোভা পাচ্ছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকা। তবে এ উন্মাদনার মাঝেও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খাল্লা গ্রামের বাসিন্দা আবু কাউছার মিন্টু মিয়া। প্রিয় দল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে তিনি প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা টানিয়ে স্থানীয়দের নজর কেড়েছেন।
উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের খাল্লা গ্রামের বিষ্ণুরামপুর থেকে বাহাদুর হয়ে খাল্লা পশ্চিমপাড়া সড়কজুড়ে টানানো হয়েছে এই বিশাল পতাকা। স্থানীয়দের মতে, এলাকায় এমন দীর্ঘ পতাকা প্রদর্শনের ঘটনা বিরল।
আবু কাউছার মিন্টু মিয়া জানান, জীবিকার প্রয়োজনে তিনি ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় যান। ২০০২ সালে দেশটিতে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে উপভোগ করার সুযোগ পান। সে সময় দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল দলের প্রতি তার বিশেষ অনুরাগ তৈরি হয়। এরপর থেকেই তিনি দেশটির জাতীয় দলের সমর্থক।

বাঞ্ছারামপুরে আবু কাউছার মিন্টু মিয়ার প্রতিষ্ঠিত ‘পিস কোরিয়া ক্যাফে’।
২০১৩ সালে দেশে ফিরে আসার পরও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি তার ভালোবাসা অটুট রয়েছে। নিজ এলাকায় তিনি ‘পিস কোরিয়া ক্যাফে’ নামে একটি রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন প্রতীক ও পতাকার ব্যবহার দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মিন্টু মিয়া এর আগেও একাধিকবার বড় আকারে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা প্রদর্শন করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা টানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২২ বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিজ এলাকায় প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা প্রদর্শন করেন। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা স্থাপন করেছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, “মিন্টু ভাই দীর্ঘদিন দক্ষিণ কোরিয়ায় ছিলেন। দেশটিকে ভালোবেসে তিনি নিয়মিত এমন উদ্যোগ নেন। তার ব্যতিক্রমী আয়োজন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।”
অটোরিকশাচালক তারিকুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বকাপ এলেই মিন্টু ভাই দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানান। এবার পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা টানিয়ে তিনি সবাইকে চমকে দিয়েছেন।”
আবু কাউছার মিন্টু মিয়া বলেন, “দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এ আয়োজন। আমি চাই বিশ্বকাপে আমার প্রিয় দল ভালো করুক। এজন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।”
স্থানীয়দের মতে, ফুটবলপ্রেমী মিন্টু মিয়ার এই উদ্যোগ বিশ্বকাপের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে এবং এলাকায় কৌতূহল ও উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।

