মঙ্গলবারে আলাবামার অবার্নে বিশ্বকাপের আগে সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ইনজুরির শঙ্কা কাটিয়ে মাঠে ফেরার কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোল পেয়েছেন লিওনেল মেসি।

গত ২৪ মে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ৬-৪ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচটিতে পেশির ক্লান্তির কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীকে। তাই ফিটনেস ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে বেঞ্চেই ছিলেন মেসি।

Advertisement

৮৮,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে লিওনেল স্কালোনি যখন একটি পরীক্ষামূলক একাদশ মাঠে নামান, তখন মেসির সঙ্গে সাইডলাইনে আরও ছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।

মেসি নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। দুর্দান্ত এক ২০ মিনিটের ক্যামিও পারফরম্যান্সে তিনি এই টুর্নামেন্টের শুরুতে তার থাকা না-থাকা নিয়ে তৈরি হওয়া সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন।

আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে। ‘জে’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান।

ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যেই আইসল্যান্ডের লিড নেওয়া উচিত ছিল, যখন ফাঁকা গোলপোস্ট পেয়েও মিকায়েল এগিল এলার্টসন বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন।

এর বদলে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরাই ম্যাচের শুরুতে লিড নিয়ে নেয়।

আইসল্যান্ডের ডিবক্সের ভেতর জটলা থেকে বলটি তারা পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেনি। বল পেয়েই স্ট্রাসবার্গের ডিফেন্ডার ভ্যালেন্টিন বার্কো কোণাকুণি শটে বল জালে জড়ান।

মেসির অনুপস্থিতিতে নিজের প্রতিভা দেখানোর বড় সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি নিকো পাজ। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগে তার একটি জোরালো শট আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক ইলিয়াস ওলাফসনের মুখে লেগে প্রতিহত হলে ২-০ করার সহজ সুযোগ নষ্ট হয়।

আর্জেন্টিনার করা পাঁচটি পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বিরতির পর ফার্নান্দেজ এবং ম্যাক অ্যালিস্টারকে মাঠে নামানো হয়।

লাউতারো মার্টিনেজও হাফ-টাইমে মাঠে নামেন এবং আর্জেন্টিনার ব্যবধান দ্বিগুণ করার মতো দুটি সহজ সুযোগ পেলেও তাঁর শট দুইবার পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

অপেক্ষারত দর্শকদের মেসির মাঠে নামা দেখার জন্য ম্যাচের শেষ কোয়ার্টার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

মাঠে নেমেই নিজের প্রথম স্পর্শে মেসি একটি চমৎকার পাস দেন মার্টিনেজের উদ্দেশ্যে। মার্টিনেজ বলটি চিপ করলেও ওলাফসন তাঁকে ফাউল করে ফেলে দেন এবং বলটি পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।

তবে মেসি কোনো ভুল করেননি; নিজের ১৯৯তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১১৭তম গোলটি তিনি সহজেই লক্ষেভেদ করেন।

আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলেও তার অবদান ছিল। মেসির পাস থেকে বল পান রদ্রিগো ডি পল, আর তার বাড়ানো স্কয়ার পাস থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে আলতো টোকায় গোল করেন থিয়াগো আলমাদা।