রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক ও আইনি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাথমিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হলেও ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে কমিশন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে ভোটের সময়সূচি নির্ধারণের বিধান রয়েছে। যেহেতু বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করছেন, তাই সেই বিধান অনুসারেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈঠকে নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে ভোটের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ও সময়সূচি ঘোষণা করবে।

সিইসি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলমান থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে পারে। সংসদ অধিবেশনে থাকলে আইন অনুযায়ী এক ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, আর অধিবেশন না থাকলে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদ সচিবালয়ের কাছ থেকে সংসদ সদস্যদের হালনাগাদ ভোটার তালিকা সংগ্রহের জন্য নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে। ভোটার তালিকা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি স্পষ্ট করেন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। বৈঠকটি কেবল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত প্রস্তুতি ও আইনি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং তাহমিদা আহমেদসহ নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এখনো বাকি রয়েছে এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ শেষে সেটি চূড়ান্ত করা হবে।