ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিরূপা ভৌমিক, সাংবাদিক নিয়াজ মোঃ খান বিটু, গভঃ মডেল গালর্স হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল লতিফ, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সালাহউদ্দিন, এনজিও নেতা এস.এম শাহীন, জেলা বিএনপির নেতা মোঃ নূরুল হুদা, নারী নেত্রী ফারজানা খানম জারমিন, ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক, ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান শফিক, জেলা বিএনপির নেতা আতিকুল ইসলাম জালাল প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, সদর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে মাদকের বিস্তার ঘটেছে, কিন্তু এ ব্যাপারে আইন-শৃংখলা বাহিনীর কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেই। সভায় বক্তারা বলেন, সদর উপজেলার নাটাই ইউনিয়নের বটতলী বাজারের বিভিন্ন দোকানের ছাদে ও তিতাস নদীর পূর্বপাড়ে মাইমল হাটিতে প্রতিদিন বিকেল থেকেই প্রকাশ্যে জুয়া খেলা শুরু হয়, চলে মধ্য রাত পর্যন্ত। জুয়া খেলে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরে। এ ব্যাপারে প্রতিকার হওয়া দরকার। এছাড়াও অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে মানুষ দিশেহারা। বক্তারা অনলাইন জুয়া বন্ধে, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ও মাদক কারবারিদের পুলিশের অভিযান জোরদার করার দাবি জানান।
সভায় বক্তারা বলেন, শহরে অবৈধ মোটর সাইকেলের চলাচল বেড়েছে। এর মধ্যে বেশীর ভাগই টানা গাড়ি। এসব মোটর সাইকেলের চালকরা হেলমেট ছাড়াই বেপরোয়া গতিতে মোটর সাইকেল চালায়। এতে একদিকে দুর্ঘটনা বাড়ছে। অপরদিকে অপরাধ প্রবনতাও বেড়েছে। বক্তারা বলেন, শহরে ছিচকে চুরির প্রবনতা বেড়েছে, এসব চোরেরা বিভিন্ন বাড়ির টিউবওয়েল, বাসা-বাড়ির বিদ্যুতের সার্ভিস লাইন, এসির কুলিং পাইপ, নির্মাণাধীন বাড়ির দরজা-জানলা, রড খুলে নিয়ে ভাঙ্গারীর দোকানগুলো বিক্রি করছে। বক্তারা এসব ভাঙ্গারীর দোকানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
সভায় বক্তারা দুর্ঘটনারোধে শহরের বিরাসার মোড় গ্যাস ফিল্ডের সামনে, পৌর এলাকার গোর্কণঘাট ব্রীজের গোড়ায় ও সূর্যমুখী কিন্ডারগার্টেনের সামনে নিয়মিত একজন করে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানান। শহরের যানজট নিরসনকল্পে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং শহরের মসজিদ রোড ও পুরাতন কোর্টরোডকে ওয়ানওয়ে করার দাবি জানান।
সভায় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোন আপোষ নেই। মাদকরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সাধ ও সাধ্যেও মধ্যে সমন্বয় কওে সদর উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবো।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান বলেন, সদর উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। সকলের সহযোগীতায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো উন্নতি করা হবে। এজন্য যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কোন আপোষ নেই। মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। ভ্রাম্যমান আদালতে সাজাও দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পৌরসভার রাস্তা-ঘাটে চলাচল করতে গিয়ে জনগন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এসব ভাঙ্গা-চুরা রাস্তাঘাট সংস্কার করতে পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, যানজট আমাদের বড় সমস্যা। অতিরিক্ত যানজটের কারনে শহরে চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। যানজট লাঘবে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে চলাচলকরা সিএনজিচালিত অটোরিকসার বিরুদ্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, আসন্ন দূর্গাপূজাকে সামনে রেখে কেউ যাতে কোন ধরনের নাশকতা করতে না পারে সেজন্য সকলকে খেয়াল রাখতে হবে।
সভায় সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যানগন, সদও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগন ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত