নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদকবিরোধী অবস্থানকে কেন্দ্র করে আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ মো. হারুন (৩৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বিক্ষোভকারীরা নোয়াখালী-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌমুহনী কাচারীবাড়ি মসজিদ এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজাহানের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তার হওয়া হারুন সেনবাগ উপজেলার দেবিসিংহপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগ ছিল। কয়েকদিন আগে স্থানীয় তরুণরা ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করলে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন নোবেল জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন তরুণের ওপর হামলা চালায়। এতে আলী হায়দার ফাহিম (১৮), রিফাত (২০) ও সাকিব আহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একই সময়ে নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে আরাফাত হোসেন ফাহিমকে একা পেয়ে হামলাকারীরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তার বাম পায়ে গুরুতর আঘাত লাগলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা মো. শাহজাহান বলেন, “আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ প্রথমে তার নানার বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছিল, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।