কক্সবাজার শহরের অদূরে ঝিলংজার হাজীপাড়া এলাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় অভিযান চালিয়ে ৯০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৩৫ লাখ ২০ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তার শ্যালকসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে ডিএনসির একটি দল অভিযান শুরু করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অভিযান শুরুর সময় ভোর ৫টা ৫০ মিনিট থেকে সকাল ৬টার মধ্যে এবং শেষ হওয়ার সময় সকাল ১০টার দিকে উল্লেখ করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন আশিক মোমেন মেহেদী (২৩), তাঁর স্ত্রী সাদিয়া ফারহানা (২৩) এবং সায়মন সরোয়ার (১৬)। ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, আশিক মোমেন মেহেদী টেকনাফের হ্নীলা এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে কক্সবাজার শহরের হাজীপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।

ডিএনসির কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশিক মোমেন মেহেদীর থাকার কক্ষের একটি কাঠের বক্সখাটের ভেতর বিশেষ কায়দায় ইয়াবাগুলো রাখা ছিল। সেখান থেকে ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে নগদ ৩৫ লাখ ২০ হাজার ৮০০ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, ইয়াবা রাখার তিনটি খালি প্যাকেট, একটি তালা ও তিনটি চাবি জব্দ করা হয়েছে।

ডিএনসি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ মাদক বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে। তবে অর্থের প্রকৃত উৎস এবং উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস সম্পর্কে তদন্ত চলছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আশিক মোমেন মেহেদী কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের এসআই শহীদের শ্যালক। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা পুলিশ কর্মকর্তা শহীদের সঙ্গে তাঁর শ্যালকের মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং পুলিশ কর্মকর্তা শহীদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমন তথ্যও ডিএনসি তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি।

ডিএনসি কক্সবাজারের পরিচালক সোমেন মণ্ডল বলেন, অভিযানে প্রাথমিকভাবে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদের আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদক ও অর্থের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে বাড়ির মালিক পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ডিএনসি সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে মাদকের উৎস, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মাদক চক্রের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন/দায়েরের তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মাদক ও অর্থের প্রকৃত উৎস এবং বাড়ির মালিক পুলিশ কর্মকর্তার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।