পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বাজারে দোকানঘর ভাড়া ও তা ছেড়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে মালিক ও ভাড়াটিয়া পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সাগর দাসের দেওয়া সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দোকান মালিক মোহাম্মদ নাইম হোসেন।
কালাইয়া বাজারে নিজের দোকানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাইম হোসেন বলেন, জে.এল. নং-১২৪-এর খতিয়ানভুক্ত ৬১৮ নম্বর দাগের এক শতাংশ জমির ওপর নির্মিত দোকানঘরটি ব্যবসার জন্য রাধেশ্যাম দাসের কাছে চার বছরের চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। চুক্তির একটি শর্ত অনুযায়ী, মালিকের প্রয়োজনে তিন মাস আগে জানানো হলে ভাড়াটিয়াকে দোকানঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাইমের ভাষ্য, মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ থেকে তিনি ভাড়াটিয়া রাধেশ্যাম দাসকে দোকানঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে আসছেন। তবে রাধেশ্যাম দাস ও তাঁর দুই ছেলে সাগর দাস ও হৃদয় দাস এতে সম্মত হননি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং বাউফল থানায়ও অভিযোগ করা হয় বলে জানান তিনি।
নাইম বলেন, ২ সেপ্টেম্বর থানায় নির্ধারিত সালিশ বৈঠকে তিনি উপস্থিত থাকলেও ভাড়াটিয়া পক্ষ উপস্থিত হয়নি। পরে থানার পরামর্শ অনুযায়ী ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা থেকে ৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার মধ্যে দোকানঘর খালি করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, ভাড়াটিয়া ওই নোটিশ গ্রহণ করে তাতে স্বাক্ষরও করেন।
দোকানঘর থেকে মালামাল সরানোর বিষয়ে নাইমের দাবি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে দোকানঘর খোলা হয়। সেখানে ভাড়াটিয়ার মালামাল গণনা করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মালামাল ভাড়াটিয়ার বাড়িতে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। বর্তমানে মালামাল প্যানেল চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশের জিম্মায় রয়েছে বলে দাবি করেন নাইম। ফলে মালামাল লুটের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া ঘটনাস্থলে বাউফল থানার এসআই মো. মফিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন না এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাঁর ‘ক্লাসমেট’ হিসেবে উপস্থাপনের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন নাইম।
সাগর দাসের আগের সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদও জানান তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ বলেন, দোকান থেকে মালামাল লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাঁর দাবি, স্থানীয় চৌকিদার, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতেই মালামাল সরানো হয়েছে এবং সেগুলোর একটি তালিকাও করা হয়েছে। তালিকায় উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বাক্ষর রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাউফল থানার এসআই মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। তবে সাগর দাস ও তাঁর বাবা পুলিশকে সহযোগিতা করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে দোকান থেকে মালামাল সরানো হয়েছে। তবে তিনি বা পুলিশের অন্য কোনো সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
অন্যদিকে, সাগর দাস বলেন, তিনি এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেবেন।
দোকানঘরটির মালিকানা, ভাড়ার চুক্তির শর্ত, নোটিশের বৈধতা এবং মালামাল সরানোর ঘটনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।