গাইবান্ধার সাঘাটার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সোমবার দুপুরে জনসমাবেশে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বক্তব্যে বলেন- জামায়াত ইসলামী রংপুরে সংখ্যাগরিষ্ট আসন পাওয়ায় সরকার তাদের উন্নয়ন কাজ থেকে রংপুর বিভাগের মানুষদের বঞ্চিত করছে। রংপুরের মানুষ তা মেনে নেবে না। মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য হাত বাড়াবেন না। মনে রাখবেন জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন না করলে আপনাদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারাই যাবে, তাদের এই দেশে থাকা হবে না। দেশের মানুষ আর দিল্লীর খবরদারি মানতে রাজি না। তিনি আরও বলেন যুবকরা এখন প্রতিবাদ করা শিখেছে। বিএনপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে। ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা চালিয়ে এখন ‘না’ বলছেন, এই দেশ থেকে নাই হয়ে যাবেন। জনতার রায়কে অগ্রাহ্য করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও কেউ টিকতে পারবে না।
বর্তমানে সব জায়গায় চুরি-চামারি ও লুটপাট ও বিদ্যুৎ লোডশেডিং এ মানুষ অতিষ্ট। চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের রুখতে হবে। দেশের জন্য একবার নয়, শতবার রাজপথে নামবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুই শিবির কর্মী হত্যার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা চাই না, ক্ষমতার লোভে আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক। গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসবেন না।
গত ২১ জুন সংগঠিত সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শহীদ সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন নিহত হয়েছে। আজকে এসে আমি তার সাক্ষী হয়েছি। আমি চাই, আর কোনো মা-বাবার বুক খালি না হয়। এই বাংলাদেশকে আমরা সঠিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চাই। আমরা সকলের নিরাপদ দেখতে চাই। তিনি খুনিদে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
জামায়াতের জেলা নায়েবে আমীর ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ এমপির সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক, গাইবান্ধা জেলা আমির আব্দুল করিম এমপি, মাওলানা নজরুল ইসলাম লেব এমপি, অধ্যাপক মাজেদুর রহমান এমপি, জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী সৈয়দ রোকনুজ্জামান, গাইবান্ধা জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কার্যাভী, সাধারণ সম্পাদক ফাহিম মন্ডল প্রমুখ।