মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে পরিত্যক্ত জমি থেকে ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী (বোম্ব ডিসপোজাল) দল। উদ্ধার হওয়া মাইনগুলোর মধ্যে ৭৯টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন এবং ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন। পরে পার্শ্ববর্তী মধুগাড়ী এলাকার মাথাভাঙ্গা নদীর মধুগাড়ী ঘাটে এসব মাইন নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে অভিযান শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত চলে। যশোর সেনানিবাসের ৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের মেজর তারিকুল ইসলাম ও ক্যাপ্টেন ইরফানের নেতৃত্বে যশোর ৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের বোম ডিসপোজাল গ্রুপ এ অভিযান পরিচালনা করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেতবাড়িয়া গ্রামের কালু মালিথার একটি পরিত্যক্ত জমি খননের সময় মাইনসদৃশ কিছু বস্তু দেখতে পান স্থানীয়রা। প্রথমে ১০টি চাকতি ও পাঁচটি বক্সসদৃশ বস্তু নজরে আসে। কয়েকটি বস্তুর গায়ে ইংরেজিতে ‘MPI 1967 MINE A/PERS ND P2 MK2’ লেখা ছিলো।
বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে নেয়। পরবর্তী সময়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাব, পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পাহারা দিতে থাকেন। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয়দের ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যেতে নিষেধ করা হয়।
মাইনসদৃশ বস্তু উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপদ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিন দিন পর সোমবার সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালায়। মাটির নিচে থাকা অবস্থান শনাক্ত করে একে একে মোট ৯৬টি মাইন উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর মাইনগুলো জনবসতি থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার আগে মধুগাড়ী গ্রামের মাথাভাঙ্গা নদীর ঘাটসংলগ্ন এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। একপর্যায়ে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। তবে পুরো নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
মাইন উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় বাড়তে থাকে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেন। দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টার উদ্বেগ ও আতঙ্কের পর মাইনগুলো উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
গাংনী থানার ওসি মুহাদ্দিদ মোরশেদ চৌধুরী বলেন, ‘দুপুরে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে মেজর তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি দল ঘঠনাস্থলে এসে তাদের প্রযুক্তি দিয়ে অনুসন্ধান চালায়। এরপর মাটি খুঁড়ে একে একে ৭৯টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন এবং ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন উদ্ধার করে। পার্শ্ববর্তী গ্রাম মধুগাড়িতে মাথাভাঙ্গা নদীর তীরবর্তী মাঠে নদীর ধারে মাটি খুঁড়ে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।’