পৌর প্রশাসক শাহিন আলমকে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানালেন দর্শনা পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আজ সোমবার দুপুর ১২ টায় পৌরসভা কার্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শনাবাসীর মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন পৌর প্রশাসক শাহিন আলম। মাত্র ৯ মাসের কার্যকালে দর্শনা পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ, দ্রুত নাগরিক সেবা প্রদান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন ও প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের মাধ্যমে তিনি নানা উন্নয়নের রূপকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে পৌর প্রশাসক শাহিন আলমের রাজশাহী বিভাগে বদলিজনিত কারণে রবিবার ( ৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় দর্শনা পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যালয়ে তাঁকে এক বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয়। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়োজিত এই বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে অনেকের চোখেই অশ্রু দেখা যায়।

​পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল আলম বলেন, “আমি দীর্ঘকাল বিভিন্ন পৌরসভায় দায়িত্ব পালন করেছি। তবে শাহিন আলম স্যার অল্প সময়ে পৌরবাসীকে যেভাবে সেবা দিয়েছেন, তা কল্পনার অতীত। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ থেকে সেবা দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা, সৎভাবে জীবনযাপনের পরামর্শ দেওয়া এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কীভাবে কাজ করতে হয়—তিনি তার বহু উদাহরণ আমাদের শিখিয়েছেন। স্যার যেখানেই থাকুন, আমরা তাঁর মঙ্গল কামনা করি এবং আশা করি তিনি আরও উচ্চতর পদে আসীন হবেন।”

​পৌরসভার কর-নির্ধারক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার দীর্ঘ ৩০ বছরের চাকরিজীবনে অনেক চেয়ারম্যান ও প্রশাসকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। স্যারকে কখনোই আমাদের কাছে ‘প্রশাসক’ বলে মনে হয়নি; তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও বন্ধুর মতো। কাউকে তিনি কখনো উচ্চস্বরে কথা বলতেন না, কোনো কর্মচারীকে ছোট করে দেখতেন না। ছোট-বড় সকলকেই সমান চোখে দেখতেন এবং তাঁর কাছে কোনো আবদার নিয়ে গেলে কেউ খালি হাতে ফিরত না।”

​এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে আরা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুকুল হোসেন, পৌরসভার প্রধান সহকারী শাহ আলম শাহ, হিসাবরক্ষক আরেফিন হোসেন, লাইসেন্স পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম, সহকারী কর আদায়কারী গোলাম কিবরিয়া ও কনজারভেশন ইন্সপেক্টর মোমিনুল ইসলামসহ পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।