গাইবান্ধার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। ৫০ পয়েন্টে ভাঙ্গন, বন্যার আশংকা। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, একই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী তিন দিনের মধ্যে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে সুন্দরগঞ্জের তিস্তা অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এদিকে পানি বৃদ্ধি-কমার প্রভাবে জেলার বিভিন্ন স্থানে বেড়ে ৫০টি পয়েন্টে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বৃহস্পতিবার সকাল ১২টার তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১২১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রীজ পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৪১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩৬১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবোর তথ্য মতে গত সপ্তাহজুড়ে জেলার নদ-নদীর পানি কম ছিল। তবে চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে। পাউবো ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে পানি কখনও বাড়ছে, কখনও কমছে। এই ওঠানামার কারণেই নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার চারটি উপজেলায় ৫০টি স্থানে ভাঙন চলছে। সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায় ভাঙন বেশী লক্ষ করা গেছে। ভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের সহ¯্রাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালীরখামার এলাকার শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চন্ডীপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এ ছাড়া সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের সিধাইল, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, দক্ষিণ রসুলপুর, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর এবং ফজলুপুর ইউনিয়নের মধ্য ও দক্ষিণ খাটিয়ামারীর চর এবং চর চৌমোহনেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকায় নদীতীর রক্ষা বাঁধের বøক ও জিওব্যাগ ধ্বসে দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এছাড়া ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ভূষিরভিটা গ্রামেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকাও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।
কামারজানির গোঘাট এলাকার বাসিন্দা রবিউল বলেন, ‘হঠাৎ রাতে দুটি স্থানে নদীতীর রক্ষা বাঁধের বøক ধসে ভাঙন শুরু হয়। পরে পাউবো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করেছে।’ সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজু বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের লালচামার ও কেরানির চর এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন হচ্ছে।’ ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী মন্ডল বলেন, মধ্য ও দক্ষিণ খাটিয়ামারীর চর এবং চর চৌমোহনসহ কয়েকটি এলাকায় ৪০০ থেকে ৫০০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ খবরও রাখা হচ্ছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এর মধ্যে তিস্তার পানি দ্রæত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বল্পমেয়াদি বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে।