নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের নান্দাইলে ১৪ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি। এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসায়।সোমবার (১০ আগস্ট) দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। উপজেলার ৩৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩৫টি মাদ্রাসা ও ৬টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নান্দাইলে এই একটি প্রতিষ্ঠান থেকেই কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।

নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে- এ বছর নান্দাইল উপজেলার ৭৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ হাজার ৮ শত ৮৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের মধ্যে ১ হাজার ৯শত ৯৭ জন শিক্ষার্থী পাস করলেও ১ হাজার ৮ শত ৯৭ জন অকৃতকার্য হন। কৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৪ জন শিক্ষার্থী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কড়ইকান্দি গ্রামে ১৯৯৮ সালে কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারীসহ মোট ১৭ জন রয়েছেন। ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি। ফলাফল বিপর্যয় হওয়ায় এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসার সুপার আকলিমা আজকের পত্রিকাকে মুঠোফোনে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটির শিক্ষকের বেতন ভাতা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের মনোবল ভেঙে পড়েছে। শিক্ষকরাও তেমন তদারিক করেনি ফলে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করতে পারেনি।

নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মফিজুল ইসলাম বলেন- মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত নয়,ফলে সেখানে শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন-ভাতার ব্যবস্থা নেই। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর আমাদের তদারকিও তেমন নেই। তাছাড়াও এ বছর পরীক্ষা অনেক কঠিন হয়েছে যার প্রভাব শিক্ষার্থীদের উপর পড়েছে।