বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া ইয়াসিন মিয়া (১৫) নামে এক শিক্ষার্থী গত ৫ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। একমাত্র সন্তানকে ফিরে পেতে দিনমজুর বাবা হারুন মিয়ার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের আকুতি যেন থামছে না। এদিকে ইয়াসিন নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই প্রতিবেশী সন্দেহভাজন তিন যুবক পলাতক রয়েছে। সন্তান ফিরে পেতে পুলিশ প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ঘুরেও নিখোঁজ সন্তানের খোঁজ মেলেনি। ইয়াসিন মিয়া আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই কোনাঘাটা গ্রামের দিনমজুর হারুন মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় সিংদই আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে নান্দাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিখোঁজ সন্তানকে ফিরে পেতে আকুতি জানান দিনমজুর পিতা হারুন মিয়া।

তিনি জানান, তার একমাত্র ছেলে ইয়াসিনকে গত ৯ মার্চ রাতে পূর্বহরি গ্রামের জিহাদ মিয়া (২), ফয়সাল মিয়া (৩৫) ও সেলিম মিয়ার (২৩) বাড়ি থেকে ফোন করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাতে খোঁজ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ১০ মার্চ নান্দাইল মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি জিডি করেন। কিন্তু সন্ধান পাওয়া যায়নি। হারুন মিয়ার অভিযোগ, নান্দাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এসআই দেবলাল সরকার নিখোঁজের মামলা নেওয়ার কথা বলে তাকে এক মাস অপেক্ষা করিয়ে পরবর্তীতে মামলা নেননি।

ছেলের সন্ধান না পেয়ে পরবর্তীতে হারুন মিয়া ময়মনসিংহ বিজ্ঞ আদালতে নালিশী আবেদন করেন। আদালত ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। ডিবি কার্যালয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে ডেকে নিয়েও ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সময় থেকেই তারা পলাতক রয়েছে।

একমাত্র ছেলেকে জীবিত ফেরত চেয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই দিনমজুর বাবা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনায় পলাতক তিন যুবকের যোগসাজশ রয়েছে। তার ছেলের সঙ্গে তাদের মোবাইল ফোনে হওয়া কথোপকথনের কিছু রেকর্ডও তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন।

হারুন মিয়া আরও বলেন, গত তিন দিন আগেও পলাতক সেলিমের পিতা সওদাগর ও ফয়সালের ভাই সাজন মিয়া নিখোঁজ ইয়াসিনকে ফেরত দেওয়ার কথা বলে ৬ লাখ টাকা দাবি করেছে।

উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,আমার সন্তানটাকে ফেরত দেন, আমি আর সইতে পারছি না। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করলে ছেলের সন্ধান পাব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ঘুরতে ঘুরতে নিজের সবকিছু শেষ করে দিয়েছি, তবুও সন্ধান মেলেনি।

এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এসআই দেবলাল সরকার বলেন,ইয়াসিন নিখোঁজের পর থানায় জিডি হলেও ওই সময় থানায় এসি না থাকায় মামলা করতে পারিনি। তবে ইয়াসিনের সন্ধান পেতে কাজ করছি। এতে আমার কোনো দায় নেই।

ময়মনসিংহ গোয়েন্দা ডিবি শাখার উপ-পরিদর্শক অংকুর সরকার বলেন, আদালত থেকে যে মামলা হয়েছে সে অনুযায়ী কাজ করছি। আদালত বলেছে ছেলে উদ্ধার করে প্রতিবেদন জমা দিতে। আগামী ৩০ আগস্ট আদালতে জবাব দেব।