পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সীমান্তে ভারতের কথিত ‘পুশইন’ কার্যক্রম বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) কঠোরভাবে প্রতিহত করছে। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারকে ১২ থেকে ১৩টি চিঠি পাঠিয়েছে।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশের অবৈধ নাগরিককে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ভারতকে পদক্ষেপ নিতে হবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাউকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে পুশইনের ঘটনা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের প্রচেষ্টার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মাধ্যমে নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের ২৬টি সীমান্ত জেলায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা সীমান্তে টহল ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও এ কাজে সহযোগিতা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, সোমবার থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন শুরু হয়েছে, যা আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলবে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে অবৈধ পুশইন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে।