জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বাজেট অধিবেশনে তিনি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করেন।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদনের পর প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী একসঙ্গে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন।

প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট। আগামী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি।

তবে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান থাকছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থায়নের পাশাপাশি ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকেও অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকার আগামী অর্থবছরে ৬.৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও বাজেটে তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য স্বস্তি নিশ্চিত করাই এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার রূপরেখা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।