ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে পাঁচ বোনকে মারধর ও তাদের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে তাদের ভাই আব্দুর রাশিদ ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পাঁচ বোন।
শনিবার বিকেলে নান্দাইল মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফাতেমা আক্তার। তিনি মৃত আব্দুল খালেকের পাঁচ মেয়ে আম্বিয়া খাতুন, সুফিয়া খাতুন, নাজমা খাতুন, শাহিদা আক্তার ও ফাতেমা আক্তারের পক্ষে বক্তব্য দেন।
লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা আক্তার অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে তাঁদের বাবা আব্দুল খালেক মারা যাওয়ার পর থেকে পৈতৃক সম্পত্তি তাঁদের ভাই আব্দুর রাশিদ ভোগদখল করে আসছেন। নিজেদের অংশ বুঝে নিতে চাইলে তাঁদের গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে এর আগেও থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন ফাতেমা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শনিবার সকালে তাঁরা বাবার বসতঘরে অবস্থান করার সময় আব্দুর রাশিদ, তাঁর স্ত্রী আয়শা, ছেলে আশিক এবং মৃত শাহজাহানের স্ত্রী নাদিরাসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় আব্দুর রাশিদ দা দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং পরে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানান ফাতেমা।
ফাতেমার ভাষ্য, তাঁকে রক্ষা করতে অন্য বোনেরা এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। পরে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় তাঁর বড় বোন শাহিদা আক্তার নান্দাইল মডেল থানায় আব্দুর রাশিদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ভুক্তভোগী বোনেরা তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ বুঝে পাওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইয়াসের খান চৌধুরী ময়মনসিংহ-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
মৃত আব্দুল খালেকের স্ত্রী হাজেরা খাতুন অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে আব্দুর রাশিদ স্থানীয় এক বিএনপি নেতার প্রভাব ব্যবহার করে তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তাঁর মেয়েরা যাতে তাঁদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝে পান, সে জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আম্বিয়া খাতুন, সুফিয়া খাতুন, নাজমা খাতুন ও শাহিদা আক্তারসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযুক্ত আব্দুর রাশিদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।