দেশে সারের কোনো সংকট নেই, বরং পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই বক্তব্যের তথ্য একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
বিসিআইসি ও বিএডিসির সার ডিলারদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কেউ সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে এবং কোনো কৃষক এ বিষয়ে অভিযোগ করলে তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ডিলারশিপ বাতিল করা হতে পারে।
তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে এবং বিদেশ থেকেও সার আমদানি করা হচ্ছে। ফলে সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই। সার বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের কাছে নিয়ম অনুযায়ী সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে ডিলারদের কার্যক্রম তদারকি করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সারের সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে নতুন করে ডিলার নিয়োগের বিষয়েও মন্ত্রিপরিষদের সভায় আলোচনা হয়েছে।
আসন্ন আমন মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় তদারকির নির্দেশ দেন তিনি।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাঈমা সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, বিসিআইসি ও খুচরা সার ডিলার এবং স্থানীয় কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সার সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ে ডিলার ও কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগও শোনা হয়।