পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ভুলতা–আড়াইহাজার–বাঞ্ছারামপুর–নবীনগর–শিবপুর–রাধিকা আঞ্চলিক মহাসড়কের কড়ইকান্দি ফেরিঘাট থেকে কোনাঘাট পর্যন্ত অংশের নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সরকারি নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আর-২০৩ আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১ হাজার ৫৩২ কোটি ২২ লাখ টাকা।
অনুষ্ঠানে সাকি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে বিভিন্ন জায়গায় মব সৃষ্টির ঘটনা দেখা গেছে। তাঁর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন রয়েছে।
তিনি বলেন, “যারা এখানে চিৎকার করে, ফেসবুকে গালাগালি করে, তাদের পক্ষে আমরা দেখি আবার বিরোধী দলের মঞ্চ থেকে কথা বলা হয়। তাহলে এই যোগাযোগটা পরিষ্কার নয়? কারা মব তৈরিতে আজকে সাহায্য করছে? তারা এই রকম পরিস্থিতি তৈরি করে নিজেদের ফায়দা তুলতে চায়।”
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গ তুলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচন করবেন। জনসার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাকি আরও বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদকে হটিয়েছি, দেশ ছেড়ে তারা পালিয়েছে। এই দেশে অন্য কোনো কিছুর নামে, ধর্মের নামে কিংবা নিজেদের বয়ানের নামে যদি ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চান, তাদেরও এই চেষ্টা আমরা সফল হতে দেবো না।”
দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ও দেশের উন্নয়নের জন্য যখন কাজ করা হচ্ছে, তখন তা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা যাতে সফল না হয়, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপথ ভিন্ন হতে পারে এবং রাষ্ট্রে রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো সভা, লংমার্চ ও বক্তব্য দিতে পারে। তবে জনগণকে কে কী বলছে, কী উদ্দেশ্যে বলছে এবং কার কী রাজনৈতিক মতবাদ—সেসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।
আঞ্চলিক সড়কটির নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ হলে বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়বে বলে মন্তব্য করেন সাকি। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে অবহেলিত থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকটি উপজেলায় এ সড়ক যোগাযোগ নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর প্রভাব পাশের কুমিল্লার কয়েকটি উপজেলাতেও পড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সড়কটি নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর অংশের সংকীর্ণতা, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও জনদুর্ভোগের বিষয়ও উঠে এসেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, কুমিল্লার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মোফাজ্জল হায়দারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. এ. খালেক পিএসসি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার, অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন জিয়া, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভৌত ও অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহসানুল হক, অতিরিক্ত সচিব বাবুল মিয়া, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা আক্তার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. এমরান খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক এ. কে. এম. ভিপি মুসাসহ গণসংহতি আন্দোলন ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল এবং প্রকল্প এলাকায় বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকটি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।