ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার দুই সমর্থকের ওপর উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের পেছনের মাঠসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

আহত দুজন হলেন আতাউর রহমান ও রাসেল বিপ্লব। তাঁরা দুজনই আশুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা। আতাউর রহমান সাবেক আহ্বায়ক এবং রাসেল বিপ্লব সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বর্তমানে তাঁরা সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলার খোলাপাড়া গ্রামের আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানের জন্য উপজেলা পরিষদের মিলনায়তন বরাদ্দসহ সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন পাঠাগারের সভাপতি আতাউর রহমান।

আবেদনপত্রে বলা হয়, ২০১৮ সাল থেকে পাঠাগারটি গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার প্রসারে কাজ করে আসছে এবং এটি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের তালিকাভুক্ত একটি বেসরকারি পাঠাগার। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে রুমিন ফারহানাকে প্রধান অতিথি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

আতাউর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অনুষ্ঠানের সর্বশেষ প্রস্তুতি ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে তিনি ও রাসেল বিপ্লব উপজেলা পরিষদে যান। তাঁরা ইউএনওর কার্যালয়ের দিকে গিয়ে সেখানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেনকে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলতে দেখেন। পরে তাঁরা কার্যালয়ে না ঢুকে উপজেলা পরিষদের বিপরীত দিকে গিয়ে অবস্থান করেন।

আতাউর রহমান ও রাসেল বিপ্লবের অভিযোগ, দুপুরের দিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। পরে উপজেলা পরিষদে থাকা গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দুই পক্ষকে পৃথক করে দেন।

রাসেল বিপ্লব বলেন, “উপজেলা পরিষদের বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে আমরা কথা বলছিলাম। দুপুরে যোহরের নামাজের সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেন।”

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, “মাদকের বিষয় নিয়ে আমাদের ছেলেদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আমি গিয়ে তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি।”

এ বিষয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, “উপজেলা পরিষদের পেছনের মাঠে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।”

ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে স্থানীয়ভাবে আরও যাচাই প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিশনের ফল অনুযায়ী তিনি ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পান।