গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লেলিনা আকতার লিয়ার বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো, পরীক্ষায় নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাত এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা।
গাইবান্ধা শহরের ঐতিহ্যবাহী এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী এবং ১৮ জন সহকারী শিক্ষক থাকার তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, লেলিনা আকতার লিয়া নিয়মিত নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান। এতে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁর কাছে প্রাইভেট পড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় তুলনামূলক বেশি নম্বর দেওয়া হয় এবং যারা প্রাইভেট পড়ে না, তাদের কম নম্বর দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, লেলিনা আকতার লিয়া কাব লিডার হিসেবে মৌলিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বাংলাদেশ স্কাউটসের অনলাইন রেকর্ডেও তাঁকে কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাব স্কাউট গ্রুপের একজন অ্যাডাল্ট লিডার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে দাবি করা হয়, তিনি কাবের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন না এবং বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। এসব বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া প্রধান শিক্ষককে তাঁর স্বামীর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে শাসানোর অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে গত ২১ জুলাই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সভা করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এরপরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক শহিদুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধার মধ্যে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। তাঁর অভিযোগ, ওই শিক্ষিকা যোগদানের পর বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা লেলিনা আকতার লিয়া বলেন, নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো যাবে না—এমন নিয়ম তাঁর জানা নেই।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে গাইবান্ধা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, লেলিনা আকতার লিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের কপি তিনি পাননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নম্বর প্রদানে পক্ষপাত, বিদ্যালয়ের সময় প্রাইভেট পড়ানো এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত।