ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুইদল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়েছে।
গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের স্বল্প নোয়াগাও এবং নতুন হাবেলিপাড়া গ্রামের লোকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার বিকেলে উপজেলার “স্বল্প নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা চলার সময় খেলা দেখা নিয়ে স্বল্প নোঁয়াগাও গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে শুভর সাথে নতুন হাবলিপাড়া গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে রামিমের প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে এ নিয়ে দুই যুবকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
মুহুর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত টর্চ লাইট জ্বালিয়ে এই সংঘর্ষ চলে।
সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটের ঢিলের আঘাতে সহকারি পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম, সরাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বারসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষের অর্ধশত লোক আহত হয়। আহতরা সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স সহ বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টার জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহায়তায় আমরা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরকে নিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনি। আজ (বৃহস্পতিবার) রাতেই দুই পক্ষকে নিয়ে থানায় বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করবো।
এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূইয়া জানান, সংর্ঘষ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ বেশ কয়েকজন ইটপাটকেলের হামলার শিকার হন। পরে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোন পক্ষ থানায় মামলা দায়ের করেনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে।