গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার ঘুষ-দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট পত্রিকাকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দৈনিক সোনালী খবর পত্রিকায় ‘গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার ঘুষ-দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশিত হয় বলে লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে জানা গেছে।
লিগ্যাল নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ওই প্রতিবেদনে নির্বাহী প্রকৌশলীর কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে মনগড়া, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশ সূত্রে আরও জানা যায়, মো. আব্দুল আজিজ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি এমবিএ, যুক্তরাজ্যের Chartered Institute of Procurement and Supply (CIPS) থেকে প্রকিউরমেন্ট বিষয়ে MCIPS এবং মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের বৃত্তি সহায়তায় অস্ট্রেলিয়া ও ইতালি থেকে ক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন বলেও এতে দাবি করা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, আব্দুল আজিজ বাংলাদেশ সরকারের স্বীকৃত জাতীয় পর্যায়ের সরকারি ক্রয় প্রশিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের উন্নয়ন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছেন। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশ অনুযায়ী, মো. আব্দুল আজিজ গত ৩০ জুলাই ২০২৬ গাইবান্ধা জেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তিনি প্রতিবাদ ও আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ বলেন, “আমার সম্পর্কে কোনো ধরনের খোঁজখবর না নিয়েই ওই সাংবাদিক মনগড়াভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করেছেন। এতে আমার মানহানি হয়েছে। আমি যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে দৈনিক সোনালী খবরের স্টাফ রিপোর্টার আলী নাইমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে দৈনিক সোনালী খবরের প্রকাশক ও সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, “লিগ্যাল নোটিশ পেয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যেই নোটিশের জবাব দেওয়া হবে।”