বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনা করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন এমপি। তিনি অভিযোগ করেছেন, এনসিপি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপি ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জামালপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের ফৌজদারী মোড়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলায় দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করেও তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ রাজপথে নেমে আসেন এবং এর মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সফল হয়।
তিনি বলেন, বিএনপি দেশের অন্যতম সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল। তাঁর দাবি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সমালোচনা করে ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াত নতুন করে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছে এবং ছাত্র-যুব আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন নেতার গঠিত এনসিপি তাদের সঙ্গে সমঝোতা করেছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপির বিরুদ্ধে এবং দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি শুধু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে ক্ষমতায় আসেনি; ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তাঁর বক্তব্যে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতের তৎকালীন রাজনৈতিক অবস্থানেরও সমালোচনা করা হয়।
বিএনপি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে দাবি করে ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ধৈর্য ও ত্যাগের সঙ্গে কাজ করবেন। একই সঙ্গে আগামী দিনে বাংলাদেশকে জনকল্যাণমূলক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির সহসভাপতি লোকমান আহমেদ খান লোটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজিব, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সফিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আব্দুল্লাহ আল মাসুদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে দয়াময়ী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।