কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতারের অপসারণ দাবি করেছে উপজেলা ছাত্রদল।
রোববার সকালে এ দাবিতে উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার কয়েক শ মানুষ অংশ নেন বলে আয়োজকদের দাবি।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কুমারখালীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজে প্রায় ৫০ জন আওয়ামী লীগ ও জামায়াত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেখানে থাকা পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। প্রায় সাত মিনিট ধরে এ পরিস্থিতি চলার পর আন্দোলনকারীদের শান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ সময় ইউএনও ফারজানা আখতার কার্যালয়ের দোতলার বারান্দা থেকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
আন্দোলনকারীরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনওকে অপসারণ এবং ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের ফল বাতিলের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে সোমবার সকাল ১০টা থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও ফারজানা আখতার। তিনি বলেন, অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দেওয়া হলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমারখালী উপজেলা প্রশাসনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফারজানা আখতার বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগী নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা সরকারি পর্যায় থেকে বলা হয়েছে। মে মাসে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত বা জাতীয় পার্টির পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি; যোগ্য ব্যক্তিরাই সুবিধা পেয়েছেন।
কুমারখালীর ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ সত্য কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তালিকা, নিয়োগের যোগ্যতা ও যাচাই-বাছাইয়ের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অভিযোগ প্রমাণের জন্য তথ্য-প্রমাণ চাওয়া হয়েছে। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।