ময়মনসিংহের ত্রিশালে মোজাদ্দেদীয়া ফিলিং স্টেশনের মালিককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ত্রিশাল উপজেলা ও ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এমরান হাছান অলি ও তার বড় ভাই যুবলীগ নেতা বদরুদ্দোজা হায়দার অভির বিরুদ্ধে তার আপন চাচা ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি, সামাজিত যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ত্রিশালের ব্যবসায়ী সোহেল রানা।
মঙ্গলবার দুপুরে ত্রিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন ব্যবসায়ী সোহেল রানা। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ও হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সোহেল রানা বলেন, ২০১৯ সালে ত্রিশাল উপজেলার রাগামারা বাজারের দক্ষিণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে একটি ফিলিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেন। এ সময় তার বড় ভাই আব্দুল মান্নান অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্মাণ ব্যয়ের ৪০ শতাংশ বহনের শর্তে একটি চুক্তি হয়।
তবে পরবর্তীতে আব্দুল মান্নান প্রতিশ্রুত অর্থ বিনিয়োগ করতে ব্যর্থ হন এবং যৌথভাবে ফিলিং স্টেশন পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করে ২০১৭ সালে আব্দুল মান্নান পূর্বে তার নামে হেবা করা ০.০৬ শতাংশ জমি পুনরায় হেবা দলিলের মাধ্যমে সোহেল রানার নামে ফিরিয়ে দেন। এরপর তিনি একক অর্থায়নে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিয়ে ফিলিং স্টেশন নির্মাণ ও পরিচালনা শুরু করেন।
সোহেল রানা অভিযোগ করেন, বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হলেও ২০২৩ ও ২০২৫ সালে ত্রিশাল থানায়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়ে এবং ২০২৫ সালে র্যাব-১৪-এর কার্যালয়ে একই বিষয়ে তাকে শুনানিতে অংশ নিতে হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে প্রাপ্ত একটি আইনজীবী নোটিশেরও তিনি আইনসম্মত জবাব দিয়েছেন বলে জানান। এসময় সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও সম্প্রতি আব্দুল মান্নানের দুই ছেলে যুবলীগ নেতা বদরুদ্দোজা অভি ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এমরান হোসেন অলি তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্টান ও বাসায় হামলা করে।
এ ব্যপারে ব্যবসায়ী সোহেল রানা ত্রিশাল থানায় অভিযোগ করেন। এরই প্রেক্ষিতে যুবলীগ নেতা ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা দুই ভাই মিলে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচার আপত্তিকর মিথ্যে প্রচারণা করছে। এই বিষয়ে সংব্দা সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানান।
ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ সুনামের সহিত ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। বর্তমানে অভি ও পলাতক অলি আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে । গত কয়েকদিন আগে আমার নির্মানাধীন ভবনে গিয়ে হামলা করে আমার শ্রমিকদের আহত করে। এ ব্যাপারে আমি থানা অভিযোগ দিয়েছি,হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে আজ গনমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষন করি।
জানতে চাইলে আব্দুল মান্নান বলেন, ফিলিং ষ্টেশনের জমির মালিকানা নিয়ে আমার দাবী নেই তবে ফিলিং ষ্টেশন চালু করার সময় শেয়ার নিয়ে একটি চুক্তিপত্র রয়েছে। আমার ছেলেরা এই বিষয়ে কাজ করছে।
চুক্তিপত্র অনুযায়ী কত টাকা দিয়েছেন জানতে চাইলে মান্নান বলেন, যখন যেখানে প্রয়োজন সহায়তা করেছি তবে নির্দিষ্ট কোন পরিমান টাকা প্রদান করা হয়নি।