নাজমুল হক বয়সে তরুন। কৃষক বাবার সাত ভাই বোনের সংসারে অল্প বয়সে চাকরী নেন টেক্সটাইলে। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে মাওনায় অফিসে যাওয়ার সময় রাস্তাপার করতে গিয়ে ট্রাকের নিচে দু পা পিষ্ট হয়ে যায়। পঙ্গু হাসপাতালে দুমাস চিকিৎসা নেয়ার পর দুটো পা কেটে ফেলেতে হয়। দীর্ঘ চার বছর পা হারিয়ে কষ্টের জীবন পার করলেও খোজ নেয়নি কেউ। সম্প্রতি ত্রিশাল উপজেলার কাঠাল ইউনিয়নে সফরে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। এসময় বিষয়টি তার নজরে আসলে পঙ্গু নাজমুল ঢাকায় নিয়ে তার কৃত্তিম পা লাগানোর ব্যবস্থা করে দেন। দীর্ঘদিন পর হাটতে পেরে নাজমুলের যেন আনন্দের শেষ নেই।

জানাযায়, উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া পাড়ার কৃষক আব্দুস সাত্তারের ছেলে নাজমুল হোসেন সাত ভাই বোনের সংসারে দারিদ্রতাকে জয় করতে অল্প বয়সেই ২০২০ সালে চাকরী নেন টেক্সটাইলে। নিজে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কৃষক বাবার পরিবারে সহায়তা করে আসছিলেন। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় কেড়ে নেয় তার সব স্বপ্ন। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে অফিসে যাওয়ার জন্যে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক পারাপারের সময় অপরদিকে ট্রাক ধাক্কা দিলে দুই পায়ের উপর দিয়ে চাকায় পৃষ্ট হয়। পরে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা করালে কৃষক বাবার সামর্থ না থাকায় উন্নত চিকিৎসার অভাবে দুপা কেটে ফেলতে হয় মাসখানেক চিকিৎসার পর। হারিয়ে যায় নাজমুলের স্বপ্ন। যে নাজমুল বাবার পরিবারের সহায়তা করতো সে হয়ে বাবার পরিবারের অতিরিক্ত চাপ। চার বছর যাবৎ পঙ্গু হয়ে পরে থাকলেও খোজ রাখেনি কেউ।

সম্প্রতি ত্রিশালে আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন উপজেলার কাঠাল ইউনিয়নে সফরকালে নাজমুলের সংবাদ পান তিনি। এ সময় তিনি নাজমুলের বাড়ি গিয়ে তার খোজখবর নেন ও কৃত্তিম পা লাগানোর আশ্বাষ দেন। গত সপ্তাহে নাজমুলকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে তার কৃত্তিম পা লাগানোর ব্যবস্থা করেন। বাড়ি ফিরে দীর্ঘদিন পর নিজ পায়ে দাড়াতে পেরে নাজমুলের যেন আনন্দের সীমা নেই। কৃত্রিম পায়ের সাহায্যে আবারও স্বাভাবিকভাবে হাঁটার স্বপ্ন দেখছেন নাজমুল হোসেন। নতুন পা পেয়ে তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, কৃষক বাবার সামর্থ না থাকায় পঙ্গু হয়ে ঘরে পরে ছিলো। নাজমুলের এই দুর্বিষহ জীবনে কৃত্রিম পা সংযোজন যেন একটি নতুন আলোর দিশা। এর ফলে সে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে এবং তার পরিবারে কিছুটা হলেও শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসবে।

এ ব্যাপারে নাজমুল হক বলেন, যিনি আমাকে নতুন করে হাটার স্বপ্ন দেখিয়েছেন তার প্রতি কৃতজ্ঞতার ভাষা আমার নেই। ছোট বেলা থেকেই বাবাকে সহযোগিতা করার জন্যেই কর্মে ছুটে গিয়েছিলাম। আজ আমিই বাবার কাধের বুঝা। আমি যদি ছোট একটি দোকানের ব্যবস্থা করতে পারতাম তাহলে আমার বৃদ্ধ বাবার পাশে সহায়ক হিসেবে থাকতে পারতাম।

স্থানীয় সংসদ ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, অসহায় পাশে দাড়ানো সামর্থবান ব্যাক্তিদের জন্যে নৈতিক দায়িত্ব। আমি সেই দায়িত্বটুকুই পালন করেছি। পরবর্তী সময়ে তার কর্মসংস্থানের জন্যে আমার চেষ্টা অব্যহত থাকবে।