হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় একটি মৎস্য খামারের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খামারির দাবি, তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের মৌজপুর গ্রামে খামারি সৈয়দ রফিকুল হোসাইন তানজির পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে পুকুরে গিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ মাছ মৃত অবস্থায় ভেসে থাকতে দেখেন।
খামারি সৈয়দ রফিকুল হোসাইন তানজির দাবি করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি জানান, এর আগেও তার খামারে দু’বার একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটনায় তিনি মাধবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে টর্চলাইট নিয়ে পুকুরপাড়ে গেলে তিনি প্রতিবেশী সেলিম মিয়া ও সোহেল মিয়াকে সেখানে দেখতে পান। তাকে দেখে তাদের একজন হাতে থাকা একটি পলিথিন থেকে কোনো রাসায়নিক পদার্থ পুকুরে নিক্ষেপ করেন এবং পরে দুজন দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
খামারির ভাষ্য অনুযায়ী, তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পরে পুকুরে মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে মাছ নিধনে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা প্রায় ১৫টি রাসায়নিক ট্যাবলেট এবং একটি কালো পলিথিন উদ্ধার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষক্রিয়ায় পুকুরের রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা গেছে বলে খামারির দাবি।
ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হয়। স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ায় থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষ প্রয়োগের অভিযোগ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।