বর্ষা মৌসুমে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব টানা বৃষ্টি,জোয়ারের পানির প্রভাব এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে ভোলার মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষের আশ্রয় স্থল ও কৃষকদের নতুন সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে জলাবদ্ধতা। দীর্ঘদিন জমিতে পানি আটকে থাকা এবং কিছু এলাকায় ভারীবর্ষনে প্লাবিত হয়েছে ঘরবাড়ি ও চলতি আমন মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে কৃষকদের মাঝে। দ্রুত এই পানি নেমে না গেলে উৎপাদনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
মঙ্গলবার(৭ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার মনপুরা ইউনিয়ন, দক্ষিণ সাকুচিয়া, উত্তর সাকুচিয়া ও হাজিরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট, কৃষিজমি পানির নিছে তলিয়ে রয়েছে।নিচু এলাকার অনেক জমিতে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। সদ্য রোপণ করা আমনের চারা কোথাও পানির নিচে তলিয়ে আছে, আবার কোথাও অতিরিক্ত আর্দ্রতায় হলদে হয়ে পড়েছে। মনপুরা ইউনিয়নের কৃষক মো.আলামিন হোসেন বলেন, মনপুরা একটি উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় জোয়ার-ভাটা ও আবহাওয়ার প্রভাব সরাসরি এখানকার ঘরবাড়ি ও কৃষিতে পড়ে। বর্ষায় অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়,ফলে মানুষের চলাফেরা ও কৃষি উৎপাদন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো সিরাজ মালতিয়া এবং উত্তর সাকুচিয়ার মো.ছাবেদ মালতিয়া জানান,একদিকের জলাবদ্ধতায় প্রভাব পরে এখানকার কৃষির উপর অপর দিকে মানুষের ঘরবাড়ি ও চলাফেরার শঙ্কা, অন্যদিকে কৃষির উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি— সব মিলিয়ে কৃষি করে টিকে থাকা তাদের জন্য এখন কঠিন হয়ে পড়ছে।
দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো আশরাফ হোসেন জাতীয় দৈনিক ইকনোমিক পত্রিকাকে বলেন, অতি বৃষ্টির কারনে দক্ষিণ সাকুচিয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার খবর পেয়েছি।তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে এলাকার কেউ যেন পানি নিষ্কাশনের খালে বাধ না দেয় সে দিকে এলাকার সচেতন মহল নজর রাখতে হবে।যদি খালে বাধ না থাকে তাহলে বৃষ্টির পানি ধীরে ধীরে নেমে যেতে পারে।ফলে কৃষকের বীজ তলা ক্ষতি থেকে বাচতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আওসান তাওহীদ জানান,পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং নিচু এলাকার জন্য জলমগ্নতা সহনশীল ‘ব্রি ধান-৫২’ চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় ছোট ছোট খাল পুনরায় খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে স্লুইসগেটের কাজ চলমান থাকায় কিছু এলাকায় লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে, তবে কাজ শেষ হলে লোকালয়ে লবণাক্ত পানি প্রবেশ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মনপুরার মতো উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে হলে শুধু সাময়িক বা মৌসুমি সহায়তাই যথেষ্ট নয়।ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনকে বড় ধরনের ঝুঁকির হাত থেকে বাঁচাতে দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু সহনশীল ধানের নতুন জাত ও কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের ওপর এখনই বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।