ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শোকাবহ পরিবেশের মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ৪৭ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, আর বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হোসেইন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য প্রকাশ করেন।

Advertisement

কেন শুরু হলো এই হামলা?

ঘটনার সূত্রপাত হয় হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর। এর জবাবে মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল—

কেশম দ্বীপ
বন্দর আব্বাস
সিরিক অঞ্চল

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র আরও হামলা চালায় হরমোজগান ও মাহশহর অঞ্চলের সামরিক ও অসামরিক স্থাপনায়।

ইরানের পাল্টা হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় বুধবার ভোরে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৮৫টি লক্ষ্যস্থলে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

ট্রাম্পের কড়া বার্তা

ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কে অবস্থানরত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দেন। ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে মার্কিন হামলার খবর আসে।

খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক

হামলার সময় ইরানে চলছিল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। তার মরদেহ ইরাকের নাফাজ থেকে ইরানের মাশহাদে নেওয়া হয়েছে এবং ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মতো একটি ‘ঐতিহাসিক ঘটনাকে’ ম্লান করতেই যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।

পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে?

মার্কিন হামলা, ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং দুই দেশের কড়া অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।