মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ২৪ জুলাইয়ের পর প্রথম।
বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২১ মিনিটে ব্রেন্ট ফিউচার ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১০০ দশমিক ০৭ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৭০ ডলার বা ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৭৩ ডলারে দাঁড়ায়।
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং এতে কয়েকটি স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর পাশাপাশি লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও বাজারকে চাপে ফেলেছে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেল উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে গোল্ডম্যান স্যাকস, ব্যাংক অব আমেরিকা ও এইচএসবিসিসহ কয়েকটি বড় বিনিয়োগ ব্যাংক তেলের মূল্য পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে পরিবহন, বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।
ব্রেন্ট ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করলেও পরবর্তী লেনদেনে কিছুটা নিচে নেমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় বাজারে আরও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
