দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে তিনটি গোল করে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও ১৫তম মিনিটে কর্নার থেকে মারওয়ান আতিয়ার ক্রসে ইয়াসির ইব্রাহিমের হেডে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। পাঁচ মিনিট পর সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেলেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। তাগলিয়াফিকো ফাউলের শিকার হলে পাওয়া স্পট কিকটি মেসির বাঁ পায়ের শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে আর্জেন্টিনা, ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়েই বিরতিতে যায় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধেও মিশরের রক্ষণ ভাঙতে হিমশিম খেতে থাকে আর্জেন্টিনা। একপর্যায়ে পাল্টা আক্রমণে জিকো গোল করলেও আক্রমণের শুরুতে ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়। তবে ম্যাচের শেষভাগে বদলে যায় পুরো চিত্র। ৭৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। মাত্র পাঁচ মিনিট পর নিজেই গোল করে সমতা ফেরান মেসি। গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বল জালে জড়ালে বিশ্বকাপে তার টানা নবম ম্যাচে গোল করার নতুন কীর্তি গড়ে ওঠে।
সমতায় ফেরার পরও থামেনি আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের নিখুঁত পাস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
তবে ম্যাচটি মেসির জন্য মিশ্র অনুভূতির ছিল। বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম গোল করলেও তিনি টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেন। বিশ্বকাপে নেওয়া আটটি পেনাল্টির মধ্যে এটি ছিল তার চতুর্থ ব্যর্থতা। অন্যদিকে মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বারের মতো পেনাল্টি ঠেকিয়ে প্রশংসা কুড়ান।
