ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত জোড়া গোল করে নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন আর্লিং হালান্ড। এই পারফরম্যান্সের ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের পাশে উঠে এসেছেন। তিনজনেরই গোলসংখ্যা এখন ৭।

তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী সমান গোল হলে প্রথম টাইব্রেকার হিসেবে বিবেচনা করা হয় অ্যাসিস্ট। সেই হিসাবে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফলে সমান গোল করেও আপাতত গোল্ডেন বুট দৌড়ে এগিয়ে আছেন তিনি।

Advertisement

ব্রাজিলের বিপক্ষে হালান্ডের জোড়া আঘাত

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় নরওয়ে।

৭৮তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন হালান্ড।
৮৯তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি।
যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে এক গোল শোধ করলেও ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নরওয়ে।

এই জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় নরওয়ে।

টানা ম্যাচে গোল করে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা

চলতি বিশ্বকাপে হালান্ডের গোলের ধারাবাহিকতা নজরকাড়া।

ইরাকের বিপক্ষে – ২ গোল
সেনেগালের বিপক্ষে – ২ গোল
আইভরি কোস্টের বিপক্ষে – ১ গোল
ব্রাজিলের বিপক্ষে – ২ গোল

মোট গোল: ৭

গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে তিনি খেলেননি। মাঠে নামা প্রতিটি ম্যাচেই গোল করার কীর্তি গড়েছেন নরওয়ের অধিনায়ক।

গোল্ডেন বুটের বর্তমান চিত্র
খেলোয়াড় গোল অবস্থা
কিলিয়ান এমবাপ্পে ৭ অ্যাসিস্টে এগিয়ে
লিওনেল মেসি ৭ সমান গোল
আর্লিং হালান্ড ৭ সমান গোল

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী গোল সমান হলে অ্যাসিস্ট, এরপর মাঠে খেলার সময় বিবেচনা করে গোল্ডেন বুট নির্ধারণ করা হয়।

নরওয়ের ইতিহাসে হালান্ডের আরেক কীর্তি

আর্লিং হালান্ড ইতোমধ্যেই নরওয়ের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। জাতীয় দলের জার্সিতে তার গোলসংখ্যা ম্যাচসংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে ব্রাজিলের মতো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব থেকে বিদায় করে দেওয়া তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এখন কোয়ার্টার ফাইনাল ও সম্ভাব্য পরবর্তী ম্যাচগুলোতেই নির্ধারিত হবে—গোল্ডেন বুট শেষ পর্যন্ত মেসি, এমবাপ্পে নাকি হালান্ড—কার হাতে ওঠে।