ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনটি পরিণত হয়েছে উইকেটের মিছিলে। দুই দলের ১৮টি উইকেট পতনের দিনে ব্যাট হাতে ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়লেও বল হাতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ম্যাচে নিজেদের সম্ভাবনা টিকিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। একপর্যায়ে ১২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা দলকে কিছুটা লড়াইয়ের অবস্থানে নিয়ে আসেন শরীফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম। তাদের ২৫ রানের জুটিতে শেষ পর্যন্ত ৬৪ রান পর্যন্ত পৌঁছায় বাংলাদেশ।

Advertisement

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরীফুল, আর তাইজুল ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন স্টার্ক। প্যাট কামিন্স নেন তিনটি এবং জশ হ্যাজলউড একটি উইকেট।

বল হাতে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জবাব

বাংলাদেশের স্বল্প পুঁজি তাড়া করতে নেমেও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদ ম্যাট রেনশকে ফিরিয়ে শুরু করেন উইকেটের মিছিল। এরপর ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেনকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ বাড়ান শরীফুল।

তবে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ৭৭ রানের জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবারও স্বাগতিকদের হাতে তুলে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত স্মিথকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন শরীফুল। এরপর অ্যালেক্স ক্যারিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ফিরিয়ে দেওয়ার পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন শরীফুল।

মাত্র ছয় বলের ব্যবধানে বো ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে সাজঘরে পাঠিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন বাঁহাতি এই পেসার। দিনের শেষদিকে মিচেল স্টার্ককেও ফিরিয়ে নিজের শিকার ছয়ে নিয়ে যান তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার লিড ১০১

দিনের খেলা শেষে ৪০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের চেয়ে তাদের লিড ১০১ রানের।

মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও বাংলাদেশের বোলাররা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, তাতে ম্যাচে ফেরার দরজা পুরোপুরি খোলা রয়েছে। বিশেষ করে শরীফুল ইসলামের ছয় উইকেট বাংলাদেশকে নতুন করে আশাবাদী করেছে।

এক প্রান্তে মিচেল স্টার্কের ছয় উইকেট, অন্য প্রান্তে শরীফুল ইসলামের ছয় শিকার—দুই বাঁহাতি পেসারের অসাধারণ বোলিংয়ে ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনেই তৈরি হয়েছে তীব্র নাটকীয়তা।

দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার বাকি উইকেট তুলে নিয়ে লিড যতটা সম্ভব কম রাখা। এরপর ব্যাট হাতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই হবে বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ।