ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। এতে প্রতিদিনই ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মরিচার চর, নামাপাড়া, উজান নওপাড়াসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি, বসতভিটা ও বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের খবর পেয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মরিচার চর নামাপাড়া এলাকার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর নদীভাঙনের কারণে শত শত একর ফসলি জমি, বসতভিটা ও বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা দ্রুত স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন জানান, চলতি বছরে নদীর পানি বৃদ্ধির পর থেকে ইতোমধ্যে অন্তত ৩০টি বসতভিটা ও বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় অর্ধশতাধিক বসতভিটা, বাড়িঘর এবং বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ শুনে সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন।

এর আগে তিনি স্থানীয় মরিচার চর নামাপাড়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষকে কর্মক্ষম ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এজন্য নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সমাজে মাদক ও জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক। এসব সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক সংশ্লিষ্ট কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এ সময় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনি, যুগ্ম আহ্বায়ক হীরা, অ্যাডভোকেট শাহজাহান কবীর সাজুসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।