নেত্রকোনার মদনে কেরোসিন ঢেলে একই পরিবারের ছয় সদস্যকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কাঙ্গাল মিয়ার ছেলে সহিনুর মিয়ার বিরুদ্ধে। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার রামদাসখিলা গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রামদাসখিলা গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান মৃত আলী হায়দারের ছেলে মনু মিয়া। রাতে পরিবারের ছয় সদস্য তার বসত ঘরে প্রতিদিনের ন্যায় ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে কৌশলে কাঙ্গাল মিয়ার মাদকাসক্ত ছেলে সহিন মিয়াসহ আরও একজন তার বসত ঘরে প্রবেশ করে। মনু মিয়ার ইঞ্জিন চালিত নৌকার জন্য তার ঘরে রাখা কেরোসিন একটি মাছ ধরার জালে ঢেলে দেয় সহিনুর। এতে ঘরে আগুন জ্বলে উঠে। মাটিতে ঘুমন্ত থাকা মনু মিয়ার ছেলে মোস্তাকিন আগুন জ্বলে উঠলে চিৎকার শুরু করে। এ সময় ঘরে থাকা সহিনুর মিয়াকে দেখতে পায় মোস্তাকিন। পরে মনু মিয়া,মোস্তাকিনসহ ছয় সদস্য চিৎকার শুরু করলে সহিনুর পালিয়ে যায়।
পরে গ্রামবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাণে বেঁচে যায় ছয়টি প্রাণ। এদিকে ঘরে থাকা একটি গরুর গায়েও কেরোসিন, কাপড়েও কেরোসিন পাওয়া যায়। এলাকাবাসী মনে করছেন ওই পরিবারটিকে হত্যা করার উদ্দেশ্যই সহিনুর এমন কাজ করেছে। এ সময় সহিনুর মনু মিয়ার ঘরে থাকা ৭০ হাজার টাকা নগদ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে রোববার সকালে পদেরকোনা ,রামদাসখিলা ও ঘাটুয়া ওই গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে একটি গ্রাম বৈঠকে বসে। বৈঠকে সহিনুরকে যেহেতু ঘর থেকে বাহির হতে দেখেছে এতে সহিনুর এ কাজ করতে পারে বলে বৈঠকে সিন্ধান্ত হয়। এ বৈঠকে সহিনুর উপস্থিত ছিল। তবে বৈঠকে সিন্ধান্ত হয় সহিনুরেই এ কাজ করেছে। কেন তাদের হত্যা করতে ঘরে থাকা কেরোসিন ঢেলে দিয়েছ এ বিষয়ে উপস্থিত বৈঠকের মাতাব্বরগণ জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি সহিনুর। টাকা চুরি করেছে এমনকি হত্যার উদ্দেশ্য এমন কাজ করেছ এ বিষয়ে মাতাব্বরগণ সিন্ধান্ত নিলে সহিনুর আত্মহত্যা করবে বলে উপস্থিত বৈঠকের মাতাব্বরদের এভাবেই বলে হুমকি দিয়ে বৈঠক ছেড়ে চলে যায়। এ সময় সে মাদকাসক্ত বলেও বৈঠকে জানায়।
এ নিয়ে গ্রামবৈঠকে কোন সিন্ধান্ত না হওয়ায় মনু মিয়াকে থানায় মামলা করার জন্য সিদ্ধান্ত দেয়।
এ ব্যাপারে মনু মিয়ার ছেলে মোস্তাকিন জানায়, আমিসহ তিনজন মাটিতে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দেখি ঘরের ভিতর আগুন জ্বলছে। পরে আমি চিৎকার দিলে সহিনুর কাকাকে দেখতে পাই। সে আমার বুকে লাতি মেরে পালিয়ে যায়।
গ্রামীণ মাতাব্বর আল আমিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই আমরা এসেছিলাম। বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক। এ নিয়ে আমরা তিন গ্রামের লোকজন বসে ছিলাম। মূলত এ ঘটনায় সহিনুর জড়িত। বিষয়টি বৈঠকে সিন্ধান্ত হলে সে সিন্ধান্ত মেনে নেয়নি। উল্টু আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে।
মদন থানার ওসি হাসনাত জামান জানান, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।