ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার নেতাই নদীতে একটি সেতুর অভাবে বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই পাড়ের ২০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন যোগাযোগ। এমনকি নদী পারাপারের দুর্ভোগের কারণে সামাজিক সম্পর্ক ও বিয়ের সম্বন্ধেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নদীর উত্তর পাড়ের মন্দিরঘোনা, পঞ্চনন্দপুর, বল্লভপুর, কাশিপুর, সানখলা, কমলপুর, তারাগড়া, ঘিলাগড়া, কড়ইগড়া ও মাইজপাড়াসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, যোগাযোগ-ব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে অনেক সময় বিয়ের সম্বন্ধ এলেও অপর পক্ষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। একটি সেতুর অভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।

নেতাই নদীর মন্দিরঘোনা ঘাটপাড় এলাকায় সেতু নির্মাণের দাবিতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। এতে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, স্থানীয় আলেম, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করতে হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হতে হয়। বর্ষা মৌসুমসহ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এ যাতায়াত আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

নদী পার হতে গিয়ে প্রাণ গেছে দুই শিশুর

স্থানীয়দের দাবি, নেতাই নদী পারাপারের ঝুঁকির কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। মন্দিরঘোনা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজের দুই ছেলে প্রায় এক বছর আগে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে নদী পার হওয়ার সময় নৌকা থেকে পড়ে মারা যায়। এ ঘটনায় নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে বলে জানান তাঁরা।

স্থানীয় আলেম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ব্রিজ না থাকায় অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।”

জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মারিয়া মান্দা বলেন, “আমাদের বাড়ির সামনে নেতাই নদীতে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি। সরকারের কাছে দাবি জানাই, যেন দ্রুত এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।”

দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির সরকার, সাবেক চেয়ারম্যান গাজিউর রহমান গাজী, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবুল ফজল, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব শহিদুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক আনিসুজ্জামান, হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মুফতি মাসুম বিল্লাহ, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, প্রবাসী বাবুল মিয়া ও মোহাম্মদ শাহ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, নেতাই নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগসংকট দূর হবে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ, কৃষিপণ্য পরিবহন ও সামাজিক যোগাযোগ-ব্যবস্থারও উন্নতি হবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।