ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় কুলসুম আক্তার (২৮) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা উত্তরপাড়া এলাকায় স্বামীর বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত কুলসুম আক্তার বেড়তলা গ্রামের দুধু মিয়ার ছেলে ও বাহরাইনপ্রবাসী আক্তার হোসেনের স্ত্রী। তিনি এক সন্তানের জননী।
পুলিশ, স্থানীয় সূত্র এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে পানিশ্বর ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে কুলসুম আক্তারের সঙ্গে আক্তার হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের আট বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে, যে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করে। স্বামী বিদেশে থাকায় কুলসুম স্বামীর বাড়ির একটি টিনশেড ঘরে একাই বসবাস করতেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে তিনি নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। বৃহস্পতিবার সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুম থেকে না ওঠায় শাশুড়ি ঘরে গিয়ে তাকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি স্বজনদের জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে তাকে মৃত অবস্থায় পান।
নিহতের বাবা আলী হোসেন অভিযোগ করেন, পারিবারিক ও জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি দাবি করেন, ঘরের কিছু মালামাল এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা স্বজন ইউসুফ আলী।
খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, মরদেহের গলা ও কানের নিচে কিছু কালচে দাগ দেখা গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
