নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. হারুন (৩৫) নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে নিহতের মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাতজনকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী এলাকায় হামলার ঘটনাটি ঘটে।

নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। গ্রেপ্তার হারুন সেনবাগ উপজেলার দেবিসিংহপুর গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন নিয়ে বিরোধের জেরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েকজন তরুণ মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে তাদের বিরোধ দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বুধবার রাতে একদল ব্যক্তি কয়েকজন তরুণের ওপর হামলা চালায়। এতে আলী হায়দার ফাহিম (১৮), রিফাত (২০) ও সাকিব আহত হন। একই সময়ে আরাফাত হোসেন ফাহিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিহতের বাবা মো. শাহজাহান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ প্রথমে তার নানার বাড়িতে নেওয়া হবে। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির মিয়া বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পটভূমি উদঘাটনে তদন্ত চলছে।