ঝালকাঠির খুচরা বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে মাছের সরবরাহ তুলনামূলক কমে যাওয়ায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ঝালকাঠির বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকার ও মানভেদে তেলাপিয়া মাছ প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস মাছের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে, যা এক সপ্তাহ আগে ১৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছিল। পোয়া মাছ ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, চাষের শিং মাছ ৪০০ টাকা, কই মাছ ২৫০ টাকা, পাবদা মাছ ৩৫০ টাকা এবং তুলারডাটি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া রুই মাছের দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং কাতলা মাছ ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ছোট আকারের ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি মাছও ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে স্বাদুপানির মাছের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতার কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে মাছ ধরার কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দামও স্থিতিশীল হতে পারে বলে তারা আশা করছেন।

অন্যদিকে, ক্রেতাদের অভিযোগ, নিত্যপণ্যের পাশাপাশি মাছের দামও বাড়তে থাকায় পরিবারের খাদ্য ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনের তুলনায় কম মাছ কিনতে বাধ্য হচ্ছে। বাজার তদারকি জোরদার এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঝালকাঠি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাইয়েদা (পূর্ণ নাম জানা যায়নি) বলেন, “ঝালকাঠি জেলার বাজার মূলত স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার চাষের মাছের ওপর নির্ভরশীল। সামুদ্রিক মাছের সরবরাহের প্রভাব এ বাজারে তুলনামূলক কম। তবে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি ও চাহিদার কারণে দামে কিছুটা ওঠানামা দেখা দিতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “মাছ ধরার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে বাজারে মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। এতে ধীরে ধীরে দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এবং পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে মাছের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। ফলে ভোক্তারাও কিছুটা স্বস্তি ফিরে পাবেন।