ভারত থেকে বাংলাদেশে কথিত ‘পুশ-ইন’ এবং সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, খুন ও ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ জুন সীমান্তবর্তী জেলা ও সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১৫ জুন রাজধানীর শাহবাগের শহীদ হাদী চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা এবং কথিত পুশ-ইন ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকার পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এ বিষয়ে সরকারের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মোকাবিলায় সরকারকে আরও সক্রিয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধ, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতিমালা অনুসরণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তবে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন সংক্রান্ত উত্থাপিত পরিসংখ্যান ও অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
