নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পাচারের অভিযোগে ৬৬৭ বস্তা সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা দুলাল মিয়া বাদী হয়ে মদন থানায় মামলাটি করেন।

মামলার আসামিরা হলেন—নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাই এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে ট্রাকচালক শামীম মিয়া (২৮), তার সহকারী ময়মনসিংহ কোতোয়ালি উপজেলার মোদারপুর এলাকার সফির উদ্দিনের ছেলে শাহিন মিয়া (২৫) এবং মদন পৌরসভার মনোহরপুর গ্রামের মৃত নূরুল আওয়ালের ছেলে চাল ব্যবসায়ী এনামুল হক আনার মিয়া।

শুক্রবার বিকেলে আটক ট্রাকচালক শামীম মিয়া ও তার সহযোগী শাহিন মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে মদন উপজেলা সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে প্রায় ২০ টন সরকারি চালবোঝাই একটি ট্রাক বের হয়। ট্রাকে মোট ৬৬৭ বস্তা চাল ছিল। সরকারি সিলমোহরযুক্ত এসব চাল নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাউসী এলাকার একটি রাইস মিলে নেওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে খবর পেয়ে মদন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং ট্রাকটি থামিয়ে তল্লাশি চালান।

এ সময় ট্রাকচালক সরকারি চাল পরিবহনের বিষয়ে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা সন্তোষজনক তথ্য দেখাতে পারেননি। পরে প্রশাসন চালবোঝাই ট্রাকটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে চালক ও তার সহকারীকে আটক করা হয়।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, সরকারি খাদ্যশস্য অবৈধভাবে পাচারের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দ করা চালবোঝাই ট্রাকসহ আটক দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।