চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামানের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় ৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাঁকে জেলা পরিষদের অনুদান ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়।

দামুড়হুদা উপজেলার ইব্রাহিমপুরে জিয়াউর রহমান ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গত ৩ অক্টোবর তিনি এসব কথা বলেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। অনুষ্ঠানে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জুড়ানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস আলী ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শরীফুজ্জামানকে বলতে শোনা যায়, “আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি না। দল আমাদেরকে নিয়ে এই চেয়ারে বসিয়েছে। এই এলাকার মানুষ আমাদেরকে চায় না। সেই জন্য আমরা এলাকার মানুষের চাইতে দলের লোককে প্রাধান্য বেশি দেব, যেহেতু দল আমাকে বসিয়েছে।” এরপর তাঁকে দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে জেলা পরিষদ থেকে কোনো অনুদান না দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়।

ভিডিওতে আরও বলা হয়, কোনো ইউনিয়নে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অথবা ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশ ছাড়া অনুদান দেওয়া হবে না।

বক্তব্যটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে শরীফুজ্জামান যুগান্তরকে বলেছেন, তাঁর বক্তব্যের আগে-পরে আরও কথা ছিল এবং সেগুলো বাদ দিয়ে বক্তব্যের একটি খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি এ জন্য জামায়াতকে দায়ী করেছেন।

একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলামও দাবি করেছেন, সুযোগসন্ধানীরা অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। জেলা বিএনপি এ ধরনের প্রচেষ্টার নিন্দা জানিয়েছে বলে তিনি জানান।

শরীফুজ্জামান বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেলের কাছে পরাজিত হন।

জেলা পরিষদের অনুদান ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার বক্তব্যটি সরকারি অর্থ ও স্থানীয় উন্নয়ন বরাদ্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে ভাইরাল ভিডিওটি বক্তব্যের একটি খণ্ডিত অংশ হওয়ায় এর পূর্ণ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়াও জরুরি।