নেত্রকোনার দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদ তালুকদারকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও শিক্ষাবিদ অ্যাডভোকেট এম এ জিন্নাহ।

গভর্নিং বডির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদ তালুকদারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। একই সভায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের জন্য কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গৌতম কুমার মল্লিককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।

এর আগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রায় পাঁচ দিন কর্মবিরতি পালন করেন। গভর্নিং বডি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁরা কর্মবিরতি সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেন। এর ফলে কলেজে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক হিসাবের গরমিল, নিয়োগে বিধি না মানা এবং একাডেমিক পরিবেশ অবনতির অভিযোগ তুলে শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

এদিকে কলেজের কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার মান বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাঁরা অভিযোগের তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজ পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্য দাবি করেন, অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদ তালুকদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলছে। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষ হিসেবে একটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি তাঁর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত অন্য একটি কলেজের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। এ কারণে দুই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ বা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদ তালুকদারের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব এবং পরবর্তী তদন্তের ভিত্তিতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।