ময়মনসিংহের ত্রিশালে ইউনাইটেড পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুটি মাহিন্দ্রা ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরে বাসটি সড়কের পাশের একটি বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যায়।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল উপজেলার কাজীর শিমলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর প্রথমে দুইজন নিহত হন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমিনা (১৪) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন—ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের রুদ্রগ্রাম মুন্সিবাড়ি এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে বজলুর রহমান ওরফে ডালিম (৩৬), একই ইউনিয়নের কাজীর শিমলা খানবাড়ি এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে রাইতুল হাসান খান (৪০) এবং আলমিনা (১৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী ইউনাইটেড পরিবহনের বাসটি কাজীর শিমলা এলাকায় পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাহিন্দ্রাকে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি আরও একটি মাহিন্দ্রা ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এরপর বাসটি সড়কের পাশের একটি বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরে আঘাত করে উল্টে যায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বজলুর রহমান ও রাইতুল হাসান খান গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে গুরুতর আহত আলমিনাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে পুলিশ জানিয়েছে।

দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ জানিয়েছেন, ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বাসচালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা বলা হয়েছে। বাসের এক যাত্রী দাবি করেছেন, চলন্ত অবস্থায় চালক হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ায় বাসটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায়। তবে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে নিশ্চিত করা হবে।