গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নয়ন মিয়া (২৪) নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে মারধর, আটকে রেখে অর্থ দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের জঙ্গলমারা থেকে জরিপপুর যাওয়ার পথে নয়ন মিয়াকে কয়েকজন ব্যক্তি পথরোধ করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে মারধর করে ফুলপুকুরিয়া বাজারে মাহাবুর রহমানের একটি দোকানের ভেতরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে লুটু মিয়া নয়নের শ্বশুর জুয়েলকে ফোন করে নিজেকে জয়পুরহাটের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেন। ফোনে জানানো হয়, নয়নকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে। তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

পরে জুয়েল ৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে স্থানীয় তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে নয়নকে ছাড়িয়ে আনতে রওনা হন। কথিত ডিবি পরিচয়দানকারী ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁদের ফুলপুকুরিয়া বাজারে যেতে বলা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ৯টার দিকে তাঁরা ফুলপুকুরিয়া বাজারে গিয়ে মাদরাসার পাশে নয়নকে দেখতে পান। এ সময় মাহাবুরের হাতে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে নয়নকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু দাবিকৃত টাকার চেয়ে কম হওয়ায় মাহাবুর, দিলীপ চন্দ্র দাস ও লুটু মিয়াসহ আরও কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, হামলাকারীরা লাঠি ও লোহার রড ব্যবহার করে তাঁদের মারধর করেন এবং নয়নকে ফেরত না দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় পরে নয়ন মিয়াকে উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নয়ন মিয়া বলেন, “সন্ধ্যার দিকে দুজন লোক আমার পথরোধ করে চড়-থাপ্পড় দিয়ে অন্যত্র নিয়ে যায়। আমার মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনও তারা নিয়ে নেয়। পরে আরও কয়েকজন এসে আমাকে মারধর করে এবং ৫০ হাজার টাকা দাবি করে।”

নয়ন আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করে ইয়াবা পাওয়ার কথা স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, মাহাবুর, দিলীপ ও লুটু নিজেদের র‍্যাব-ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ফোনে কথা বলেছিলেন। পরে তাঁকে মাহাবুরের দোকানে নিয়ে আটকে রাখা হয়।

নয়ন বলেন, রাত ৯টার দিকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন সেখানে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের গজিয়াপাড়া এলাকার মাহাবুর রহমান (৫২), আলীপুর এলাকার দিলীপ চন্দ্র দাস (৪০) এবং জরিপপুর (জঙ্গলমারা) এলাকার লুটু মিয়ার (৫৫) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে ডিবি পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে তুলে নেওয়া, আটকে রাখা ও অর্থ দাবি করার অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনায় কারা জড়িত—তা নির্ধারণ হওয়ার কথা রয়েছে।