গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের ঘটনায় অভিযোগের পুনঃতদন্ত এবং সাপমারা ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) বেলাল হোসেনের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা। এ দাবিতে রোববার দুপুরে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের পণ্ডিতপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মকবুল হোসেন বলেন, পণ্ডিতপুর মৌজার জেএল-৮৬-এর ৫ নম্বর খতিয়ানের ৫০৫ দাগে প্রায় সাত একর জমি গত ৪০ বছর ধরে পণ্ডিতপুর গ্রামের ১৫ থেকে ১৬টি পরিবার চাষাবাদ ও ভোগদখল করে আসছে। তবে সম্প্রতি একই গ্রামের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লুকাস মরমু, বীরেন মরমু, ইস্তিফানসহ কয়েকজন ওই জমি তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি বলে দাবি করছেন।
মকবুল হোসেনের অভিযোগ, বিরোধে না জড়িয়ে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য তারা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু সম্প্রতি সাপমারা ইউনিয়নে কর্মরত তহসিলদার বেলাল হোসেন তাদের না জানিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে গোপনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
তিনি অভিযোগের পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি তহসিলদার বেলাল হোসেনকে অপসারণ করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল কুদ্দুস সরকার, মো. বাদশা মিয়া, লোকমান হোসেন, শাহীন মিয়া, রাজ্জাক মণ্ডল, মোস্তফা, জাফিরুল ইসলাম, ওয়েজ কুরনী, আবদুল মতিন ও আবদুল লতিফসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের লুকাস মরমু ও বীরেন মরমুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, ওই জমি তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি। তারা দাবি করেন, অন্যরা জোরপূর্বক জমিগুলো দখলে রেখেছেন। জমি উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
তহসিলদার বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তদন্তের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার জানা মতে, তাদের নোটিশ করে অফিসে ডাকা হয়েছে। সেখানে তাদের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”