নীলফামারী সদর উপজেলার ভেরাডাঙ্গা সরকারপাড়া এলাকায় ৪৬ শতক জমির মালিকানা নিয়ে প্রায় ৫–৬ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। ফরিদ হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই জমির ১৩ শতক নিজেদের বলে দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জয়নুল আবেদিন। তবে জয়নুলের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির একটি অংশ তিনি বৈধ দলিলের মাধ্যমে কিনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
জয়নুল আবেদিনের অভিযোগ, জমিতে চাষাবাদ বা পরিদর্শনে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বাধা দেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। এ কারণে তিনি নিজের দাবি করা জমিতে যেতে পারছেন না বলেও জানান।
জয়নুলের দেওয়া নথিপত্র অনুযায়ী, সি.এস. ১৮৭ নম্বর খতিয়ানের ৪৪৪০ নম্বর দাগে ২৬ শতক এবং ৪৪৪৫ নম্বর দাগে ২০ শতক—মোট ৪৬ শতক জমির মালিক ছিলেন সাহাব উদ্দিন। পরে তাঁর ছেলে ইউনুস আলী সরকার ওয়ারিশসূত্রে ওই সম্পত্তির মালিক হন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ইউনুস আলী সরকার ১৯৫৫ সালের ২২ জানুয়ারি ৫২৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ৪৪৪০ দাগের ২৬ শতক ও ৪৪৪৫ দাগের ২০ শতকসহ মোট ৪৬ শতক জমি আব্দুল মজিদ ও আজাদ আলীর কাছে বিক্রি ও দখল হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে তাঁদের নামে এস.এ. ২২১ নম্বর খতিয়ান প্রকাশিত হয় বলে জয়নুলের দেওয়া কাগজপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
জয়নুলের দাবি, ওই ৪৬ শতকের মধ্যে ৪৪৪০ দাগের ২৬ শতকে আব্দুল মজিদের ১৩ শতক এবং আজাদ আলীর ১৩ শতক ছিল। অন্যদিকে ৪৪৪৫ দাগের ২০ শতকে দুজনের ১০ শতক করে অংশ ছিল।
পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর ৮০৩৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে আজাদ আলী তাঁর ৪৪৪০ দাগের ১৩ শতক জমির মধ্য থেকে ১০ শতক জয়নুল আবেদিনের কাছে বিক্রি করেন এবং দখল হস্তান্তর করেন বলে দলিলের তথ্য থেকে জানা যায়।
সে হিসাবে জয়নুলের দেওয়া নথির ভিত্তিতে ৪৪৪০ দাগের ২৬ শতকের মধ্যে আব্দুল মজিদের ১৩ শতক, জয়নুল আবেদিনের ১০ শতক এবং আজাদ আলীর অবশিষ্ট ৩ শতক থাকার কথা। আর ৪৪৪৫ দাগের ২০ শতকের মধ্যে আব্দুল মজিদ ও আজাদ আলীর ১০ শতক করে অংশ থাকার দাবি করা হয়েছে।
তবে জয়নুলের অভিযোগ, ফরিদ হোসেন, তাঁর তিন ছেলে হামিদুর ইসলাম, রশিদুল ইসলাম এবং রশিদুলের এক ছেলে রেকর্ডের সূত্র উল্লেখ করে ১৩ শতক জমির মালিকানা দাবি করছেন। তাঁর ভাষ্য, এ নিয়ে একাধিকবার থানা ও আদালতে বিষয়টি গড়ালেও প্রতিপক্ষ তাঁদের দাবির পক্ষে দলিল বা মালিকানার অন্যান্য কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।
জয়নুল আবেদিন বলেন, “আমার বাবার সময় থেকেই আমরা এই জমি ভোগদখল করে আসছি। পরে দলিলের মাধ্যমে আমি জমি কিনেছি। ২০১১ সালের ৮০৩৮ নম্বর দলিলে আজাদ আলীর কাছ থেকে ১০ শতক জমি কিনে দখল বুঝে নিয়েছি। কিন্তু জমিতে যেতে গেলে আমাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, জমি-সংক্রান্ত বিরোধে আদালতের একটি আদেশও পেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই আদেশের পরও জমিতে যাওয়া বা চাষাবাদে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
জয়নুল আবেদিন জমির মূল দলিল, খতিয়ান, সরকারি রেকর্ড ও আদালতের নথি যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
তবে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের দাবির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মূল দলিল, বিভিন্ন সময়ের খতিয়ান ও সরকারি ভূমি রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন। আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারণ করা সম্ভব।
এ বিষয়ে ফরিদ হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।