কক্সবাজারের চকরিয়ার দুর্গম বদরখালীতে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছিল অপরাধের এক নীরব কারখানা। দিনের আলোয় লোকচক্ষুর অন্তরালে, আর রাতের আঁধারে অস্ত্রের ঝনঝনানিতে সক্রিয় ছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অস্ত্র তৈরি, কেনাবেচা ও ডাকাতদের কাছে ভাড়ায় সরবরাহ সবকিছুরই অভিযোগ উঠেছে চক্রটির বিরুদ্ধে।
অবশেষে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভেঙে পড়েছে সেই অস্ত্রচক্রের একটি শক্ত ঘাঁটি। উদ্ধার হয়েছে তিনটি দেশীয় রাইফেল-শর্টগান, ৭৬০ রাউন্ড গুলি ও অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জাম। গ্রেপ্তার করা হয়েছে নারীসহ ছয়জন ডাকাত।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা চকরিয়া থানার বদরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম হুন্যাপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। দুর্গম পাহাড়ি ও জনবিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ায় প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানায় পুলিশ।
অভিযানে কুখ্যাত শুটার রাজিব, নামি ডাকাত, জসু ডাকাত, শুটার সাগর ও জহুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি দুইনালা রাইফেল, একটি একনালা রাইফেল ও একটি শর্টগান, ৭৭ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ এবং দেশীয় অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম।
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হলকাটাপাড়ায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখানে শহর বানু নামে আরও এক নারীকে গ্রেপ্তার ও তার বাড়ির পেছনের পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ৬৮৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি। অভিযানে উদ্ধার হওয়া ৭৬০ রাউন্ড গুলি ও বিপুল অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দেশীয় অস্ত্র তৈরি ও কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ডাকাত দলের কাছে এসব অস্ত্র ভাড়ায় দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতি পরিচালনার অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্গম এলাকা ও জনবিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে অস্ত্রের কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় অপরাধচক্রের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে নতুন করে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে পৃথক মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল আজিজ বলেন, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।