ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে চান্দেরহাট সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুজ্জামানের লাশ ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
রবিবার রাত ৮টায় চান্দের হাট বিওপির আওতাধীন এলাকায় লাশ হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে পীরগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে বিএসএফের গুলিতে তিনি আহত হন এবং পরে ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পক্ষে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান ও বিএসএফের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ৪২ বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিহত ব্যক্তির নাম আসাদুল হক উল্লেখ থাকলেও রোববার রাত ১১-০১ মিনিটে দেয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তা আসাদুজ্জামান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সোমবার সকালে টেলিফোনে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, নিহতের নাম ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে করা চোরাচালান সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় একেকবার একেক নাম ব্যবহৃত হয়েছে।
বিজিবির গোয়েন্দা সূত্র থেকে আমরা ‘আসাদুল হক’ নামটি পেয়েছিলাম। কিন্তু লাশ হস্তান্তরের সময় নিহতের স্বজনদের কাছে তার এনআইডি কার্ড থেকে আমরা আসাদুজ্জামান নামটিই পাই। লে. কর্নেল মইন হাসানের ধারণা, সীমান্ত অপরাধ সংগঠিত করার কাজে আসাদুজ্জামান একেকবার একেকটি নামে পরিচিত হতেন বলেই এই বিভ্রান্তি।
এদিকে , স্থানীয় সূত্রে একই গ্রামের আরও দুই বাংলাদেশি নাগরিক—মুস্তাকিম (৩৮) ও উদা চন্দ্র রায় (৩৫)—কে আটক বা তাদের আহত হওয়া প্রশ্নে বিজিবি জানায়, তাদের আহত বা নিহত হবার খবরটি ঠিক নয়।তবে তারা আটক হয়ে আইনী হেফাজতে আছেন বলে ভারতীয় মিডিয়ায় দেখা গেছে। এবং সেখানে ভারতীয় টেলিভিশন খবরে তাদেরকে সুস্থ্য স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে। বিএসএফ বিজিবির কাছে তাদের আটকের কথা স্বীকার করেছেন।